বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি তেলের অভাবে লোডশেডিংয়ের সময় সেটি চালানো যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাখা বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর ৫০ শয্যার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত শয্যার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। এদিন হাসপাতালে মোট ৫৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়ার্ডজুড়ে নেমে আসে অস্বস্তিকর পরিবেশ। পাখা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগীদের অনেকেই হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে থাকেন।
শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন গোপালপুর গ্রামের আবদুস সামাদ। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর তাঁর পাশে থাকা স্ত্রী চম্পা বেগম বলেন, গরমে তাঁর স্বামীর শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়। বিদ্যুৎ কখন আসবে, সেটিরও কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। একই ধরনের সমস্যার কথা জানান নারী ওয়ার্ডে ভর্তি লতা রানী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ চলে গেলে জরুরি বিভাগে আইপিএসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) জন্য জেনারেটর রাখা হয়েছে। তবে সাধারণ ওয়ার্ডের পাখা চালানোর জন্য লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর ব্যবহারের সুযোগ নেই।
ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়ার্ডে আলো জ্বালানোর জন্য এনার্জি বাল্ব থাকলেও পাখা বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে গরমের সময়ে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর স্বজন বলেন, অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও বিদ্যুৎ চলে গেলে গরমে তাঁদের আরও কষ্ট করতে হয়। জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও শুধু জ্বালানি না থাকার কারণে সেটি ব্যবহার করা না যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তাঁরা হতাশা প্রকাশ করেন।
শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে জেনারেটর রয়েছে। কিন্তু জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল কেনার কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। এ কারণে লোডশেডিংয়ের সময় সাধারণ ওয়ার্ডের পাখা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেলে লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালিয়ে ওয়ার্ডের পাখা সচল রাখা সম্ভব হবে। এতে রোগীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।