গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল পাট ঘিরে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার কৃষক পরিবারগুলোতে এখন ব্যস্ততা বেড়েছে। মাঠ থেকে জলাশয়-সবখানেই চলছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ। বর্ষার পানিতে কয়েক দিন জাগ দেওয়ার পর পাটের আঁশ ছাড়াতে ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শিবগঞ্জ উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪০ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১৪৫ হেক্টর জমির পাট কাটা হয়েছে। গত মৌসুমে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯০ হেক্টর।
সরেজমিনে উপজেলার সৈয়দপুর, জগন্নাথপুর, দেউলি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা জলাশয় থেকে জাগ দেওয়া পাট তুলে এনে আঁশ ছাড়াচ্ছেন। কেউ পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন, আবার কেউ আঁশ থেকে পাটকাঠি আলাদা করে রোদে শুকিয়ে নিচ্ছেন। পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যরাও সমানভাবে এ কাজে অংশ নিচ্ছেন।
কৃষকেরা জানান, চলতি মৌসুমে পাটের ফলন ভালো হলেও উৎপাদন ও শ্রমিকের খরচ বেড়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে খরচ বাদ দিয়ে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তারা।
জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মানকৈড় এলাকার কৃষক মোস্তাফিজ বলেন, “এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় পাট গাছও বেশ ভালো হয়েছিল। এখন জাগ দেওয়া পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে পরিবারের সবাই ব্যস্ত।”
একই এলাকার কৃষক বেলাল বলেন, “পাট চাষে শ্রমিক ও উৎপাদন খরচ দুটোই বেশি। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকবে। তাই পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়াটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
এক কৃষাণী বলেন, “পাট ছাড়ানোর সময় পরিবারের সবাই কাজে নেমে পড়ি। আঁশ ছাড়ানো ও পাটকাঠি শুকানোর পর পাট বিক্রি করা হয়। সময়টা ব্যস্ততার হলেও পাট থেকে ভালো আয় হলে আমাদের কষ্ট সার্থক হয়।”
জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকার পাট ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলী বলেন, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট ৩৯০০ থেকে ৪২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।”
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, “চলতি মৌসুমে পাটের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। কৃষকেরা এখন পাট কেটে জাগ দেওয়ার পর আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। পাটের আঁশের মান ভালো রাখতে পরিষ্কার পানিতে সঠিক নিয়মে জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। পাট আবাদের শুরু থেকেই কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে কৃষকেরা এ ফসল চাষে আরও উৎসাহিত হবেন।