বগুড়ার শেরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলা গ্রহণে বিলম্ব এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদত হোসেন। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম হোসাইন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও তিনি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
গত ২৩ অক্টোবর শেরপুর উপজেলার গারিদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া কলোনি মধ্যপাড়া এলাকায় নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ মর্জিনা খাতুন (৩২) ২৫ অক্টোবর তাঁর স্বামী রেজাউল করিমকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাইক্রোবাস কেনার জন্য স্বামী পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এজাহার দেওয়ার পর মামলা গ্রহণে বিলম্বের অভিযোগ তুলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহাদত হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের সঙ্গে দেনদরবার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা সরাসরি মর্জিনা খাতুনের বক্তব্য জানতে চাইলে তাঁর প্রতিনিধি জানান, তিনি অসুস্থ থাকায় কথা বলতে পারবেন না।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই শাহাদত হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়েছিলেন। পরে ঢাকায় কাজ থাকায় কয়েক দিন থানার বাইরে ছিলেন। বাদী অসুস্থ থাকায় তাঁর প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয়েছে। বিবাদীর বাড়িতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। তথ্য অনুসন্ধানের জন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, “বিবাদীর সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের আগে কখনো দেখিওনি। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ছাড়া আমার সঙ্গে কোনো সাংবাদিকের কোনো কথা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী একজন উপপরিদর্শক নিজের ক্ষমতায় কোনো অভিযোগকে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে পারেন না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম হোসাইন বলেন, নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বুধবার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।