বগুড়ার শেরপুরে রাতের আঁধারে দুই কৃষকের প্রায় ১ হাজার ৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ঋণ ও কিস্তির টাকা নিয়ে গড়ে তোলা কলাবাগান এক রাতেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই দুই কৃষক। এ ঘটনায় তাঁদের লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চোমরপাথালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনায় শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
ক্ষতিগ্রস্ত দুই কৃষক হলেন চোমরপাথালিয়া বাজার এলাকার আবুল কালাম ফেলুর ছেলে ফরিদ এবং নজরুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান সত্তার। তাঁরা জমি বর্গা নিয়ে প্রায় তিন বিঘা জমিতে কলার চাষ করেছিলেন। দুর্বৃত্তদের হামলায় বাগানের প্রায় সব কলাগাছই নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা কলাবাগানে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একে একে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলে। বুধবার সকালে জমিতে গিয়ে গাছগুলো কাটা অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন কৃষকেরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, ঋণ ও কিস্তির টাকা নিয়ে তাঁরা কলার চাষ শুরু করেছিলেন।
দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয়ে গড়ে তোলা বাগানটি এক রাতেই ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে তাঁরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। একদিকে ঋণের টাকা পরিশোধ, অন্যদিকে নতুন করে চাষাবাদ শুরু করা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতা ও প্রতিহিংসার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের কলাগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এভাবে কৃষকের ফসল নষ্ট করার ঘটনা ঘটতে থাকলে চাষাবাদে আগ্রহ হারাবেন কৃষকেরা। তাঁরা দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত দুই কৃষক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”