চলতি মৌসুমে আলু চাষ করে আবারো লোকসানের মুখে পড়েছেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর অনেক কম হওয়ায় সংরক্ষিত আলু বিক্রি করে খরচের অর্ধেকও তুলতে পারছেন না অনেকে। গত বছরও লোকসান গুনেছেন এমন অনেক কৃষক ভালো দামের আশায় এবার ঋণ করে আলু হিমাগারে রেখেছিলেন। কিন্তু বাজারের পরিস্থিতি বদলায়নি। বরং লোকসানের বোঝা আরও বাড়ছে। আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে কেজিপ্রতি ১৭ টাকা, অথচ হিমাগার থেকে বের করে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতি কেজি স্টিক ১১ টাকা, পাগরী ২০ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে হিমাগার ভাড়া, বস্তা প্যাকিং ও পরিবহন খরচ। সব মিলিয়ে লোকসানের হিসাব এতটাই ভারী যে, হিমাগারে রাখা আলু তুলতেও সাহস পাচ্ছেন না অনেক কৃষক। আবার চলতি মাসের শেষের দিকে বাজারে নতুন আলু আসতে শুরু করলে দাম আরো কমবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। শিবগঞ্জ উপজেলার ১৭টি হিমাগারের মোট ধারণক্ষমতা ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৪৩ মেট্রিক টন। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ আলু এখনো হিমাগারে মজুদ রয়েছে। এদিকে আলুর বাজার মন্দা হওয়ায় আলু সংরক্ষকগণ অনেকেই হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন/গ্রহণ না করায় বিদ্যুতের উচ্চ মূল্য কোল্ড স্টোরেজ পরিচালনার ব্যয় ইত্যাদি বিবেচনায় কোল্ড স্টোরেজ কেন্দ্রীয় মালিক সমিতির প্রচলিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ১৫ নভেম্বর তারিখের পর কোল্ড স্টোরেজ খালি করার নিমিত্তে কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃক সংরক্ষিত আলু কমিটির মাধ্যমে বিক্রয় করা হবে মর্মে জেলার কয়েকটি হিমাগারে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ আলু উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হিমাগারের ভাড়া ও সংরক্ষণ খরচ। কিন্তু বাজারে আলুর পাইকারি দর কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় অনেকেই হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আলু চাষী আজিজুর রহমান ২০০ বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছেন। বস্তাপ্রতি তার খরচ ১ হাজার ৯৫০ থেকে ২ হাজার টাকা, অথচ বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকায়। এতে প্রতি বস্তায় প্রায় ৮০০-৯০০ টাকা লোকসান হচ্ছে। আরেক আলু চাষী মাহাবুর রহমান বলেন, হিমাগারে স্টিক আলু বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা আর হিমাগার ভাড়া ৪০০ টাকা। সব মিলিয়ে এবারো লোকসান। আলু ব্যবসায়ী আবু সাঈদ সরদার বলেন, স্টিক আলুর বস্তা প্রতি খরচ হয়েছে ১১শ টাকা, বর্তমানে হিমাগারের গেটে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০ টাকা। বস্তা প্রতি লোকসান প্রায় ৫০০ টাকা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাবো। শিবগঞ্জ নিউ কাফেলা কোন্ড স্টোরের ম্যানেজার মিলটল মিয়া বলেন, তাদের হিমাগারে ধারন ক্ষমতা ১ লক্ষ ৫০ হাজার বস্তা। এখনো আলু মজুদ আছে হাজার ৫৪ বস্তা। বাজারে চাহিদা কম থাকায় আলু এখনো মজুদ আছে। হিমাগারে আলু রাখার সময়সীমা আগামী ১৫ তাং পর্যন্ত। উপজেলার ১৭টি হিমাগারের অবস্থা একই।