চাঞ্চল্যকর যুবদল নেতা সুজন হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ দুজনের যাবজ্জীবন

নর্থ এক্সপ্রেস
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট, ২০২৬ - ২০:৩১
• পঠিত: 11 বার

সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজন হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি ও মনিরুল ফকির নামে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মনিরুল ফকির আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামি নিহতের স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি পলাতক রয়েছেন।
এদিকে, রায় ঘোষণার পর তা প্রত্যাখ্যান করে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন নিহত সুজনের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও বন্ধুসহ শতাধিক নারী-পুরুষ। তারা এই রায় মানি না, মানবো না’ স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামসুজ্জোহা শাহানশাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পাবনার আটুয়া হাউজপাড়া গ্রামের গোলাম রহমানের মেয়ে ও নিহত সুজনের স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি এবং শাহজাদপুর উপজেলার মাঘলা গ্রামের বিল্লাল ফকিরের ছেলে মনিরুল ফকির (৩৬)।
অন্যদিকে, মামলার দুই আসামি মো. পিয়াস হোসেন (৩৪) ও রাশিদুল ইসলাম রাশেদ (৪২)-কে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২ জুন সেলিম রেজা সুজনকে পরকীয়ার জের ধরে নিজ ঘরে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর জবাই করে হত্যা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর তার স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি পালিয়ে যান। পরে নিহতের মা মাজেদা খাতুন বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
নিহত যুবদল নেতার মা মাজেদা বেগম বলেন,
আমার ছেলেকে যারা নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করেছে, আজ তাদের মামলার আসামি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই রায় আমি মানি না, মানবো না। আমার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চাই। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব। আমার ছেলের হত্যার বিচার দ্রুত বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমি আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। আমি চাই, যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
দীর্ঘদিনের তদন্ত, সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায়কে ঘিরে সিরাজগঞ্জে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।






