বগুড়ার শেরপুরে বিদ্যালয় থেকে ডেকে নিয়ে ৯ শিক্ষার্থীকে প্রায় আট ঘণ্টা একটি মুরগির খামারের গুদামে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন কিশোরের বিরুদ্ধে। পরে দুই শিক্ষার্থী কৌশলে বের হয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দিলে অভিভাবকেরা গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্ত তিন কিশোর পালিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন অভিভাবকেরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মহিপুর কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। রাতে ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বাবা শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে গেলেও বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসেনি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে অন্তত ৫০ জন অভিভাবক শিক্ষকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্জুয়ারা পারভীন বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার সমাবেশে ওই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আটজন উপস্থিত ছিল। চতুর্থ ঘণ্টার ক্লাসে তাঁদের পাওয়া যায়নি। শ্রেণিকক্ষে বইয়ের ব্যাগ পাওয়া গেলেও শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত ছিল। পরে বিদ্যালয়ের আশপাশে খোঁজ করেও তাঁদের না পেয়ে বিকেল তিনটার দিকে অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সিয়ামের ভাষ্য, এলাকার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর ১০০ টাকা দেওয়ার কথা বলে তাদের বিদ্যালয় থেকে ডেকে নেয়। এরপর ইজিবাইকে করে গ্রামের পশ্চিম পাশে নেওয়া হয়। সেখানে আরও দুজন কিশোর তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।
পরে তাদের শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল বাজারের উত্তর পাশে একটি মুরগির খামারের গুদামে নিয়ে শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়। বের হতে চাইলে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয় বলেও জানায় ওই শিক্ষার্থী।
আবদুল হান্নান ও রিফাত হাসান নামে দুই শিক্ষার্থী টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে গুদাম থেকে বের হতে সক্ষম হয়। পরে গাড়িতে করে মহিপুর বাজারে গিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে বিকেল পাঁচটার দিকে অভিভাবকেরা ওই গুদামে গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গুদামে আটকে রাখার সময় তাদের কোমল পানীয় দেওয়া হয়। দুপুরে বিরিয়ানি খাওয়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বিভিন্ন ভঙ্গিতে তাদের মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়। এসব ভিডিও বিদেশে পাঠানো হবে এবং পাসপোর্ট হলে তাদের বিদেশে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও শিক্ষার্থীদের জানানো হয় বলে তারা জানিয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এক শিক্ষার্থীর বাবা লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।