
স্টাফ
রিপোর্টার
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ - ১৩:৫০
• পঠিত: ২ বার

জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত হননি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন নিয়ে যারা প্রতিনিয়ত কথা বলেন, আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে তাঁরা ধোঁকাবাজির পরিচয় দিয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে সরকারের উদ্যোগে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। শুধু আমন্ত্রণপত্র পাঠানোই নয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম টেলিফোনেও তাঁদের আমন্ত্রণ নিশ্চিত করেছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ মীর মুগ্ধ, আবু সাঈদ ও আনাসের বাবা এবং এক শহীদের মাকে সঙ্গে নিয়ে চার শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘ ১০ বছর পর ওসমানী উদ্যানও উদ্বোধন করা হয়। স্মৃতিস্তম্ভে গেজেটভুক্ত ৮৩৪ জন শহীদের নাম রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, আমন্ত্রণপত্রে বিরোধীদলীয় নেতার নাম না থাকায় অনুষ্ঠানে যোগ দেননি—এমন যুক্তি সঠিক নয়। আমন্ত্রণপত্রে নাম না থাকলেও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় নেতা সাইফুল হক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে ডেকে নিয়েছিলেন। বিরোধী দলের নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে তাঁদের প্রতিনিধিদেরও মঞ্চে ডেকে নেওয়া হতো।
বিরোধী দলের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী দল ‘চকলেট’ পাচ্ছে। অথচ অতীতে আমরা বসার জায়গাও পাইনি।” নির্বাচনের আগে বেহেশতের কথা বলে ভোট চাওয়া এবং পরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনীতি করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশেষ কোনো ধর্ম বা গোষ্ঠীকে পুঁজি করে রাজনীতি করার ফলাফল দেশের মানুষ আগেও দেখেছে। বিএনপি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে পুঁজি করে রাজনীতি করে না। সব শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষের হৃদয় জয় করেই বিএনপি জনগণের কাছে যাবে।
বাক্স্বাধীনতার নামে অশালীন ভাষা ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বক্তব্যে শালীনতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এরপরও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হলে জাতীয়তাবাদী শক্তি তা মেনে নেবে না। বিএনপির মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বট ব্যবহারের বিষয়টি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলের ভেতরে কারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিরোধী দলকে আন্দোলন বা লংমার্চের পরিবর্তে সংসদে এসে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ৯ নভেম্বর থেকে সংসদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সংসদে বিরোধী দলের কথা বলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া, সমালোচনা করা কিংবা ওয়াকআউট করা গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ। ওয়াকআউটের পর আবার সংসদে ফিরে এসে কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। সংবিধানে বিরোধী দলের ভূমিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি সদস্যপদ শূন্য রাখা হয়েছে। তবে তারা সেখানে সহযোগিতা করছেন না। সংঘাতের পথ পরিহার করে কমিটিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল যেকোনো সময় পাঁচজন প্রতিনিধির নাম দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রেস ব্রিফিং শেষে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কিচক ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের ফিরোজার পরিবারের হাতে পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রতিভাবান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
