সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বগুড়ার যুবক শাহেদ আহমেদের মৃত্যুর খবর পৌঁছেছে তাঁর পরিবারের কাছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে বগুড়ার মাদলা এলাকার বাড়িতে এ খবর পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বামীকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন শাহেদের স্ত্রী।
শাহেদ আহমেদ বগুড়া মহানগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মাদলা মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম মিঠুর ছেলে। তিনি গত তিন বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।
শাহেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শাহেদের বাবা মো. রফিকুল ইসলাম মিঠু প্রায় ২০ বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাসী। বাবার সুবাদে তিন বছর আগে সৌদি আরবে যান শাহেদ। দুই মাস আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। ছুটি শেষে গত শুক্রবার আবারও কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছিলেন।
এদিকে, তিন মাস আগে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান শাহেদের মা।
আগামী ১৪ অক্টোবর তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। বর্তমানে শাহেদের মা-বাবা সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে রয়েছেন।
শাহেদের বোন জামাই সাজু বলেন, ‘আমার শ্বশুরের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে তাঁরা এখনো রিয়াদে যেতে পারেননি।’
শাহেদের স্ত্রী কাকলি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল পাঁচটার দিকেও তাঁর (শাহেদ) সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। এরপর আর কথা হয়নি। সরকারের কাছে আমার চাওয়া, আমার স্বামীকে দেশে ফিরিয়ে এনে দিক।’
মাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেন, ‘শাহেদের বাড়ি আমার পাশের এলাকায়। খবর পেয়ে আমি সেখানে এসেছি। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি।’
স্বজনদের এমন শোকাবহ পরিস্থিতিতে শাহেদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।