
শেরপুর বগুড়া
প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ - ১৮:৫৪
• পঠিত: ৮ বার

বগুড়ার শেরপুরে স্কুল চলাকালে নয় শিশু শিক্ষার্থীকে কৌশলে সরিয়ে নিয়ে একটি গুদামে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় আট ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করা হয়। মাত্র ১০০ টাকা ও ছবি তোলার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুদের ইজিবাইকে তুলে নেওয়া হয় বলে উদ্ধার হওয়া এক শিক্ষার্থী জানিয়েছে। পরে শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল বাজারসংলগ্ন একটি গুদামে নিয়ে শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তবে শিশুদের আটকে রাখার ঘটনার পাশাপাশি তাদের ছবি ও ভিডিও ধারণের বিষয়টি সামনে আসায় ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে একই এলাকায় কিশোরদের ১০০ টাকা দেওয়ার বিনিময়ে বুকের সামনে কার্ড ধরে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগও পাওয়া গেছে। ফলে এসব ঘটনার সঙ্গে কোনো সাইবার চক্র বা অনলাইন পরিচয় যাচাইয়ের অপব্যবহারের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে শেরপুর উপজেলার মহিপুর কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির নয় শিক্ষার্থীকে স্কুল চলাকালে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মঞ্জুয়ারা পারভীন জানান, সকাল সাড়ে ৯টার সমাবেশে নয় শিক্ষার্থীর আটজন উপস্থিত ছিল। তাদের বই-খাতা ও স্কুলব্যাগ শ্রেণিকক্ষেই ছিল। কিন্তু চতুর্থ ঘণ্টার ক্লাসে গিয়ে তাদের আর পাওয়া যায়নি।
পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। বিকেল ৩টার দিকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়।
উদ্ধার হওয়া এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ১০০ টাকা ও ছবি তোলার কথা বলে তাদের একটি ইজিবাইকে তুলে নেওয়া হয়। পরে শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল বাজারসংলগ্ন একটি মুরগির খামারের গুদামে নিয়ে শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে হত্যাসহ নানা ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও সে জানায়।
একপর্যায়ে দুই শিশু টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পায়। তারা স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়। পরে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
নয় শিক্ষার্থী উদ্ধারের পর অনুসন্ধানে গত ২১ আগস্টের একটি ঘটনার তথ্যও সামনে আসে। পৌর শহরের উত্তর সাহাপাড়ার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের দাবি, ওই দিন তাকেসহ কয়েকজনকে শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া বাজারসংলগ্ন ডেমাজানি রোডের একটি ফার্নিচারের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই কিশোরের ভাষ্য, সেখানে প্রত্যেকের বুকের সামনে পরিচয়পত্রের মতো দেখতে একটি কার্ড ধরে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। মোবাইল ক্যামেরার সামনে মুখ ও ঘাড় এদিক-ওদিক ঘোরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে দেওয়া হয়।
তার দাবি, ওই দোকানে আরও অনেক কিশোরকে একইভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে এবং টাকা নিতে দেখেছে সে।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, ক্যামেরার সামনে মুখ বা মাথা নড়াচড়া করিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণের প্রক্রিয়া অনলাইন পরিচয় যাচাইয়ের কিছু ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়। ‘লাইভনেস ভেরিফিকেশন’-এর মাধ্যমে ক্যামেরার সামনে থাকা ব্যক্তি বাস্তবে উপস্থিত কি না, তা যাচাই করা হয়।
আইটি বিশেষজ্ঞ মো. রুহুল আমিন বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রলোভন দেখিয়ে এভাবে ছবি বা ভিডিও সংগ্রহের উদ্দেশ্য তদন্ত করে দেখা জরুরি। এসব ছবি বা ভিডিও কোথায় এবং কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তবে শিশুদের সংগৃহীত ছবি বা ভিডিও কোনো সাইবার অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, এখনো তা প্রমাণিত হয়নি। ফলে ঘটনার সঙ্গে কোনো সাইবার চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটি তদন্তের বিষয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
শেরপুর থানার ওসি এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। শিশুদের কেন সেখানে নেওয়া হয়েছিল এবং ছবি বা ভিডিও ধারণের সঙ্গে ঘটনার কী সম্পর্ক রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
