ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, রাস্তা ও জনবহুল এলাকায় প্রায়ই দেখা মেলে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা নারী-পুরুষের। কেউ দিনের পর দিন রাস্তার পাশে বসে থাকেন, কেউ ঘুরে বেড়ান এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়। অনেকের পরনে থাকে অপরিচ্ছন্ন পোশাক, কারও আবার ঠিকমতো খাবার জোটে না। মানুষের ব্যস্ত জীবনের আড়ালে এভাবেই অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে তাদের দিন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব মানুষের কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা, চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এবং সামাজিক অবহেলার কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হরিপুরের বিভিন্ন বাজার ও সড়কে তাদের ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলেও তাদের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তালিকা পাওয়া যায়নি। ফলে কতজন মানুষ এমন পরিস্থিতিতে রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কতজন চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের আওতায় এসেছেন—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা মানুষকে অবহেলা বা উপহাস না করে পরিবারের সদস্য ও সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ এবং নিয়মিত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কাউন্সেলিং, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা গেলে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সুযোগ বাড়বে।
হরিপুরে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র থেকে কাউন্সেলিংসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটে রয়েছে। তবে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা রাস্তায় বসবাসকারী বা পরিবারবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের জন্য বাস্তবে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা আরও পরিষ্কারভাবে জানানো এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে রাস্তায় থাকা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং যাদের পরিবার নেই তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—মানসিক সমস্যায় থাকা এসব মানুষ কি শুধু রাস্তার দৃশ্য হয়েই থাকবেন, নাকি মানবিক উদ্যোগে ফিরে পাবেন স্বাভাবিক জীবনের অধিকার।