বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় দেশজুড়ে আলোচিত লোটো শোরুমের ম্যানেজার পিন্টু আকন্দ হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি মো. সিয়াম হোসেন ওরফে সাহসকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দক্ষিণ দুলালপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-১২-এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানি (সিপিএসসি), বগুড়া এবং এসআরবি-৫-এর সিপিসি-৩, জয়পুরহাটের যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) এসআরবি-১২, সিপিএসসি বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিন্টু আকন্দ (৩৮) বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সিও অফিস মোড়সংলগ্ন খন্দকার মার্কেটে তৌফিক এলাহী সুজনের লোটো শোরুমের ম্যানেজার হিসেবে প্রায় তিন বছর ধরে কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৯টা ৭ মিনিটে শোরুম বন্ধ করার প্রস্তুতি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন পিন্টু। এ সময় অজ্ঞাতনামা ছয়-সাতজন ব্যক্তি শোরুমে প্রবেশ করে তাঁর সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে বাইরে রাখা একটি সাদা হায়েস মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
পিন্টুর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অপহরণকারীরা তাঁকে নিয়ে নওগাঁ সড়কের দিকে চলে যায়।
পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে মাইক্রোবাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৩২৬৮ বলে শনাক্ত করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের কোমরভোগ থেকে কোমরপুরগামী পাকা সড়কের পাশে একটি পুকুরের উত্তর দিকে পিন্টুর মরদেহের সন্ধান পান। তাঁর নাক-মুখে সাদা স্কচটেপ লাগানো ছিল। তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।
এ ঘটনায় পিন্টুর স্ত্রী বাদী হয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১৪। এতে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৬৪, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে এসআরবি-১২, সিপিএসসি বগুড়া তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারির ধারাবাহিকতায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে এসআরবি-৫, সিপিসি-৩ জয়পুরহাটের সহযোগিতায় নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দক্ষিণ দুলালপাড়া এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডে সারোয়ার নামের এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে সিয়াম হোসেন ওরফে সাহসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সিয়াম হোসেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার জিনুইর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। তাঁকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুপচাঁচিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআরবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।