
বগুড়া
প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ - ১০:২৫
• পঠিত: ১ বার

বগুড়ায় আমবাগান লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলায় আহত মোকছেদুল হাসান (৩৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। হামলার সাত দিন পর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
মোকছেদুল হাসান বগুড়ার মাটিডালী উত্তরপাড়া এলাকার মো. হায়দার আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে মাটিডালী উত্তরপাড়া এলাকায় মোকছেদুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে স্বজনেরা তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, বারোপুর-নামুজা সড়ক এলাকায় প্রায় ৩২ বিঘার একটি আমবাগানের মালিকানা ও ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে মোকছেদুলকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, ৪ সেপ্টেম্বর রাতে ছয় থেকে সাতজনের একটি দল মাটিডালী এলাকায় যায়। সেখানে তারা প্রথমে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে সরে গেলে উত্তরপাড়ায় জারা কার হাউসের বিপরীতে বসে থাকা মোকছেদুলকে একা পেয়ে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৭ দশমিক ৬৫ এমএম বোরের পিস্তলের দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর মোকছেদুলের মা মোছা. রেবেকা বেগম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। মামলার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ছায়াতদন্ত শুরু করে।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. নাজমুল হুদা রাফিত (২১) ও মো. হাছান আকন্দ (২৪)। রাফিত বগুড়া মহানগরের উত্তর চেলোপাড়া এবং হাছান সদর উপজেলার নিশিন্দারা চকরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, হামলায় আহত মোকছেদুল হাসান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
