1. aleyaa31a16@gmail.com : Aleyaa 31 : Aleyaa 31
  2. sajedurrahmanshohan@gmail.com : Sajedur Shohan : Sajedur Shohan
  3. sejanahmed017@gmail.com : Sijan Sarkar : Sijan Sarkar
  4. sohan75632@gmail.com : Sohanur Rahman : Sohanur Rahman
  5. multicare.net@gmail.com : নর্থ এক্সপ্রেস :
শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার পথে সংকট আসতে পারে, আশঙ্কা সিইসির

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

একটি পক্ষের ভোট বর্জনের কারণে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানের বিষয়ে সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। ট্রেন, বাস ও ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের জের ধরে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ শঙ্কা প্রকাশ করেন। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার কোনও সুস্পষ্ট মানদণ্ড নেই বলেও মন্তব্য করেন সিইসি।

শনিবার (৬ জানুয়ারি) সংসদ নির্বাচনের আগের দিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত মিট দ্য প্রেসে খোলামেলা কথা বলেন সিইসি কাজী হাবিবুল আইয়াল। এতে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ট্রেনে আগুন দিয়েছে। ভোটকেন্দ্রেও আগুন দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। যারা হরতাল দিয়েছে, তারাও বলেছিল— তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবে। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম শান্তিপূর্ণভাবে ভোটারদের মাঝে (তারা) ভোটবিরোধী প্রচারণা চালাবে।’

আগুন দেখে তারা (ইসি) দুঃখ ভারাক্রান্ত এমনটা জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘কোনও দল যদি এটি করে থাকে, এটি অমার্জনীয় অপরাধ বলে মনে করি।’

নির্বাচনে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দলকে আনতে পারেননি। আপনারা ইভিএম ও সিসিটিভি চেয়েও পাননি— এ অবস্থায় নির্বাচনকে কতটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কতটা নিয়ন্ত্রিত হবে সেটা ভবিষ্যৎ বলবে। সর্বাত্মক চেষ্টা হচ্ছে। সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে কোনও একটা বিরোধী পক্ষ ভোট বর্জনের পাশাপাশি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। এতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে উঠিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিছুটা সংকট দেখা দিতে পারে। এই বাস্তবতাটা অস্বীকার করছি না। তবে আশা করি, বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে জনগণের অংশগ্রহণে ও ভোটরদের আগমনে (নির্বাচন) উঠে আসবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য আরও  ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন, সেটা হয়তো দেখতে পারবেন।’

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা এই নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে নির্বাচন না বলে এক ধরনের সিলেকশন বলে আখ্যা দিচ্ছেন, আপনারা কী মনে করছেন? জবাবে সিইসি বলেন, ‘অনেকে সিলেশন বলছেন, শুধু সিলেকশন নয়, আরও কিছু ব্যক্ত করেছেন। তারা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই বিশেষণগুলো দিয়েছেন। আমি স্পষ্ট করে বলছি— আমাদের কাজ হচ্ছে নির্বাচন আয়োজন করা। রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িত হওয়া আমাদের কাজ না। তা হচ্ছিও না। আমরা নির্বাচনটাকে নির্বাচনের মতো করে করতে যাচ্ছি। যেসব বিতর্ক বলা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে থাকবে। এর সুরাহা রাজনীতিবিদরা এক সময় করবেন। আমাদের নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে অনুগ্রহ করে সহযোগিতা করবেন।’

নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘গ্রহণযোগ্যতার কোনও সুস্পষ্ট মানদণ্ড নেই। এটা একটি আপেক্ষিক বিষয়। কেউ বলবেন গ্রহণযোগ্য হয়েছে, কেউ বলবেন হয়নি। তবে আমরা আমাদের তরফ থেকে চেষ্টা করবো নির্বাচনকে সর্বাঙ্গীন গ্রহণযোগ্য করতে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক আসছেন। আপনারা দৃশ্যমান করে তোলার চেষ্টা করবেন। এতে দেশে- বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে। গণমাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উঠে আসলে মানুষ প্রকৃত চিত্র বুঝতে পারবে।’

অন্য আরেক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘ভোটগ্রহণের সময় ভোটারদের নিরাপত্তায় আট লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত আছেন। বড় দল ভোটবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে. শান্তিপূর্ণ হলে আমরা কিছু মনে করবো না। ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য বলবে, সেটা অপরাধ। এটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ।’

সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কি কোনও রাজনৈতিক দল? কমিশনের ওপর আস্থা থাকুক বা না থাকুক…। কোনও বিশেষজ্ঞ কি বলবেন যে, ১০ বছর নির্বাচন বন্ধ করুন, দলগুলো সমঝোতায় আসলে ভোট করুন। তাহলে আমি নির্বাচন বন্ধ করে দেবো।’

তিনি বলেন, ‘ইসির একজন কর্মকর্তাও ভোটগ্রহণের জন্য সম্পৃক্ত থাকবেন না। সেই ভোটগ্রহণের মধ্যেই যদি কারচুপি হয়, কিছু দায়ভার আমাদের ওপর আসবে। কেন্দ্রে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী প্রিজাইডিং অফিসার। তার দায়িত্ব বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাজেই দায়ভার আপনাদেরও নিতে হবে। কেননা, ভোটকেন্দ্রে মিডিয়ার অবাধ অধিকার থাকবে। তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। স্বচ্ছতা তুলে ধরতে পারলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যেতে পারে।’

মার্কিন ভিসানীতির বিষয়ে জাপানি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘এটা কমিশনের দায়িত্ব নয়, কে অংশ নেবে। কমিশন সবাইকে আহ্বান জানাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য। নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। তারা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বিশ্বাস করে। যারা এক্ষেত্রে বাধা তাদের ওপর এই নীতি প্রয়োগ করবে। আমরা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করছি না। আমরা জানি না, কারা আগুন দিচ্ছে, মানুষকে হত্যা করছে। আমরা আমাদের জায়গায় থেকে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের চেষ্টা করছি। আমরা এটা নিয়ে চিন্তিত নই। কারণ, এটা আমাদের বিষয় নয়। ভিসা কী, পাসপোর্ট কী, অর্থনীতি কী— তা আমি বুঝি না। এটা বোঝে পররাষ্ট্র দফতর।’

এই নির্বাচনের পর বিরোধী দল কে হবে, সরকার কে হবে তা তো জানা— এই পরিস্থিতিতে আপনি বিব্রত কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘এটা আমাদের বিষয় নয়। এটা রাজনৈতিক ইস্যু। নির্বাচন হলে তারাই সংসদে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা এজন্য মোটেই বিব্রত নই।’

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন হচ্ছে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বডি। আমি বলতে চাই, আমরা বিশ্বাস করি— গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক এবং স্বচ্ছতামূলক নির্বাচন। স্থানীয়ভাবেই কেবল নয়,  আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষণ হোক আমরা সেটা চাই।’

দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের সামনে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে মিট দ্য প্রেস আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। এ সময় অন্য নির্বাচন কমিশনার, সচিবসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© নর্থ এক্সপ্রেস নিউজ কর্তৃক সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট