1. aleyaa31a16@gmail.com : Aleyaa 31 : Aleyaa 31
  2. sajedurrahmanshohan@gmail.com : Sajedur Shohan : Sajedur Shohan
  3. sejanahmed017@gmail.com : Sijan Sarkar : Sijan Sarkar
  4. sohan75632@gmail.com : Sohanur Rahman : Sohanur Rahman
  5. multicare.net@gmail.com : নর্থ এক্সপ্রেস :
শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন

বগুড়ার শেরপুরের মাছের আঁশটে যখন রপ্তানিযোগ্য পণ্য

জিয়াউদ্দিন লিটন
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২ জুলাই, ২০২৩
  • ৪৯ বার পড়া হয়েছে

 

শেরপুরের বাজারগুলোতে অনেক মাছ বিক্রেতাই মাছের আঁশটে থেকেই আয় করছে বাড়তি টাক। এতে পরিবার যেমন সহযোগিতা পাচ্ছে তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখছে। কোনো কিছুই যে ফেলনা নয় সেই তত্ত্ব প্রমাণ করেই গুরুত্বের তালিকায় ক্রমেই ওপরের দিকে উঠে আসছে মাছের আঁশ বা আঁশটে। ফলে এক সময়ের বর্জ্য এখন অর্থ আয়ের উপাদানে পরিণত হয়েছে।

মাছ কাটতে হলে তার আঁশ ফেলতেই হবে। সেই আঁশের ঠিকানা হয় নোংরা-আবর্জনা ফেলার স্থানে। মাত্র দুই যুগ আগেও হয়তো কেউ ভাবেনি এই ফেলে দেওয়া আঁশ বা আঁশটে একদিন বিশ্ববাজারে বিক্রি হবে! সেই আয় দিয়ে অনেকের সংসার চলবে। এখন আঁশ সংগ্রহ ও বিক্রি করেই সংসারের বাড়তি আয় হচ্ছে। রফতানিকারক পর্যায়ে মাছের আঁশ পৌঁছাতে মাঠপর্যায়ের সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত, বাজারজাতকারীদের মধ্যে একটি নিবিড় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠেছে। এর পাশাপাশি এই আঁশ থেকে রূপান্তরিত পণ্য উৎপাদনের প্রবণতাও বাড়ছে। ফলে দেশে মাছের আঁশের চাহিদা ও দাম দুটোই বাড়ছে।
শুরুর দিকে বাজার থেকে এই আঁশটে প্রতি কেজি ১০থেকে ১৫ টাকা দরে সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল। বর্তমানে প্রতি কেজি ৭০থেকে ৮০ টাকা দরে ক্রয় করতে হচ্ছে। এটা ক্রমশ বাড়ছে।
শেরপুরের বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রায় ৬/৭ জন বড় মাছ বিক্রেতা মাছের আঁশটে সংগ্রহকারী রয়েছে। কথা হয় নির্বাণ আলি আব্দুল মজিদ এবং রহমত আলীর সাথে। প্রতিমাসে এক থেকে দেড় মন আঁশটে সংগ্রহ হয় তাদের প্রত্যেকের। বগুড়া থেকে আসা সংগ্রহকারীরা দুমাস পরপর আঁশটে কিনে নিয়ে যায়। এতে করে বাড়তি আয় হয় তাদের।

শহরের বাজারগুলো থেকে এখন অনেকেই মাছ কেটে নিয়ে আসে, অনেকেই শুধু আঁশটে ছাড়িয়ে মাছটা নিয়ে আসে। সেখান থেকেই আঁশ চলে যায় ব্যবসায়ীর হাতে। মাছ থেকে আঁশটে ছাড়িয়ে সেগুলোকে পরিষ্কার করে পানিতে ধুয়ে রোদ্রে শুকিয়ে বস্তায় প্যাকেট করে রাখতে হয়।

মাছের আঁশে আছে কোলাজেন ফাইবার, অ্যামাইনো এসিড, জেলাটিন, গুয়ানিন ও বায়ো অ্যাভসরবেন্স ক্যাপাসিটি ও-এর মতো কয়েকটি বিশেষ গুণ। বায়ো অ্যাভসরবেন্স
ক্যাপাসিটি’র কারণে পরিবেশ থেকে লেড এবং শিসা নিয়ন্ত্রণ করে। এই আঁশ দিয়ে তৈরি পাউডার ওষুধ শিল্প, প্রসাধনী শিল্প ও খাদ্যশিল্প যেমন বিভিন্ন রকমের স্যুপে পুষ্টি উপাদান হিসেবে মাছের আঁশটে ‘র পাউডার ব্যবহৃত হয়। পরিবেশ সুরক্ষার রক্ষাকবচ পণ্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মাছের আঁশে কোলাজেন থাকায় কৃত্রিম কর্ণিয়া ও কৃত্রিম হাড় তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। রিচার্জেবল ব্যাটারি তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয় মাছের আঁশটে। পোল্ট্রি খাদ্য হিসেবে মাছের আঁশটে ব্যবহার করা হয়।

মহিলাদের গয়না, কানের দুল, গলার মালা প্রভৃতি তৈরি হয় মাছের আঁশ থেকে। নেইল পলিশ ও লিপস্টিকের মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয় মাছের আঁশটে। তৈরি হচ্ছে মনীষীর মূর্তি। মাছের আঁশ দিয়ে ওষুধের মোড়ক তৈরির কথাও জানা যায়। মাছের দেশ বাংলাদেশে এখন শুধু মাছ নয়, আঁশটেও দামি। বড় বড় বাজারগুলোতে আঁশটে সংগ্রহ করার জন্য পাত্র রেখে আসেন অনেকে।

সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাছের আঁশের রফতানি মূল্য ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় দুই কোটি ৯৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। পরবর্তী অর্থবছরেই অর্থাৎ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৫ লাখ দুই হাজার ডলার বা চার কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতানি আয়ের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ লাখ ৯০ হাজার ডলার বা ২৬ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
২০১৯-২০ অর্থবছরে রফতানি আয় বেড়ে ৩০ কোটিতে পৌঁছায়। ক্রমশই মাছের আঁশ অর্থনীতিতে আলো ছড়াচ্ছে। ধীরে ধীরে প্রসার ঘটছে আঁশের। সেই সঙ্গে আসছে বৈদেশিক মুদ্রাও।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশে মাছের চাহিদা ৪৫.৫২ লাখ মেট্রিক টন। এর ৪০ শতাংশের বহিরাবরণই আবৃত থাকে আঁশে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ২০০ কোটি টাকার বেশি মাছের আঁশ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। শুধু চীনেই প্রতি বছর প্রায় তিন হাজার টন মাছের আঁশ রপ্তানি হচ্ছে। এটিও এখন একটি শিল্পে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন,জাপান, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। অর্থাৎ এর একটি সম্ভাবনার বাজার তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শারমিন আকতার বলেন,
সরকারিভাবে এই শিল্পটিকে আরেকটু এগিয়ে নিতে পারলে বেকার সমস্যার সমাধান হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও লাভবান হতে পারে।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিদা সুলতানা বলেন মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের জন্য এবং মাছের আঁশের বাজার সৃষ্টির জন্য সরকার সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© নর্থ এক্সপ্রেস নিউজ কর্তৃক সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট