1. aleyaa31a16@gmail.com : Aleyaa 31 : Aleyaa 31
  2. sajedurrahmanshohan@gmail.com : Sajedur Shohan : Sajedur Shohan
  3. sejanahmed017@gmail.com : Sijan Sarkar : Sijan Sarkar
  4. sohan75632@gmail.com : Sohanur Rahman : Sohanur Rahman
  5. multicare.net@gmail.com : নর্থ এক্সপ্রেস :
মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :

বৃক্ষপ্রেমেই প্রশংসিত বগুড়ার এসপি সুদীপ চক্রবর্তী

দীপক সরকার
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ জুন, ২০২৩
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

এক সময় যে ছাদটিতে প্রখর রৌদ্র ও বৃষ্টির স্যাত স্যাতে শ্যাওলা দ্বারা আচ্ছাদ্রিত ছিলো। সেই ছাদটি এখন গাছ রোপণ ও মিশ্র ফলবাগান করায় ভোর থেকে পাখিরা কিচিরমিচির শব্দে মাতিয়ে রাখে সারাক্ষণ। পাখিরা নানাশব্দে জামগাছের জাম ও লিচুগাছে লিচু খাচ্ছে, ফেলছে। কাঠ বিড়ালীরা একগাছ থেকে আরেক গাছে ছুটে বেড়াচ্ছে। তাইতো কবির ভাষায়-
‘একা হয়ে যাও
এতোটুকু স্নেহ আর মমতার জন্য আমি কতোবার
নিঃস্ব কাঙালের মতো সবুজ বৃক্ষের কাছে যাই-
হে বৃক্ষ আমাকে তুমি এতোটুকু ভালোবাসা দাও,
বনস্পতি আমাকে দেখিয়ে দেয় তোমার দুচোখ
বলে, ওই দুটি নিবিড় চোখের কাছে যাও।’
বিখ্যাত কবি মহাদেব সাহা’র ‘আর কার কাছে পাবো’ কবিতার কথাগুলো বারবার টানে প্রকৃতি দিকে। সাহিত্যে-সংস্কৃতির রূপ-রস ও প্রেম নিজ হৃদয়ে লালন, দেশপ্রেমের একনিষ্ট কর্মীর নিষ্ঠা ও সততার প্রলেপ অবলোকন করে, কর্তব্য -দায়িত্ব পালন তাকে ক্লান্ত করতে পারেনি। পারেনি তাকে পিতৃত্বে মমতাও ছেড়ে যেতে। ¯েœহ ও ভালবাসার অবলীলায় নিজেকে প্রস্তুত করে বরাবরই ছুটে যান বৃক্ষের সাথে তাদের হৃদয়ের প্রেম নিঃসরণ করতে। তাইতো এমন বৃক্ষরাজির আর্শিবাদপুষ্টে ব্যস্ততার সময়গুলোই যেন ক্ষীণ হয়ে আসছে। নিজেকে সব সময় ব্যস্ত রাখতে চান দেশপ্রেমের সকল দায়িত্ব কর্তব্য ও বৃক্ষরাজির প্রেমে। এমন কথাগুলো বলছি বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকে নিয়ে।
বাংলাদেশে জনসংখ্যার ঘনত্বের তুলনায় আবাদী জমি অপ্রতুল পাশাপাশি নগরায়ন,অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ও আবাসন খাত হতে উদ্ভূত চাহিদা পূরণ করতে যেয়ে প্রতি বছর কৃষিজমি সংকুচিত হচ্ছে। আবাদি জমির সংকোচন ও গাছপালা কমে যাওয়ার ফলে বহু প্রজাতির পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, গাছপালার ক্রমবিলুপ্তির কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ব্যাপক বনায়ন ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য উন্নত করা সম্ভব। কিন্তু শহরাঞ্চলে আবাদি জমি ও গাছপালা কমে যাওয়ায় বনায়ন ও বৃক্ষরোপণের সুযোগ নেই বললেই চলে। স্বনির্ভর অর্থনীতির অনন্য অনুসঙ্গ স্বনির্ভর কৃষি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বনির্ভর কৃষি নিশ্চিতে এক ইঞ্চি জমিও পতিত কিংবা অনাবাদী রাখা যাবেনা মর্মে অনুশাসন দিয়েছেন। এই ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পতিত, অনাবাদী ও অব্যবহৃত জমি সংস্কার পূর্বক বিভিন্ন ধরণের ফলজ, বনজ বৃক্ষ, শাকসবজী ও ফুলগাছ রোপণের পদক্ষেপ হিসেবে বগুড়ায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অব্যবহৃত ছাদে বিভিন্ন প্রচলিত, দু®প্রাপ্য, অপ্রচলিত, সম্ভাবনাময় গাছ লাগান। গত বৃহস্পতিবার এমনটাই জানান পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী।
শুধু ছাদ বাগানেই দেড়শ’ প্রজাতির সাড়ে তিনশ’ ফলদ ওষুধি গাছ। গাছের চারা অন্যতম হলো বারাবা, ম্যানিলা চেরি, ব্লাক বেরি, কাটিমন আম, দোফলা আম, সূর্ষ ডিম আম, ব্যানানা আম, মিস্টি তেঁতুল, ভিয়েতনামী মাল্টা, থাইবেল, বন কাঁঠাল, অ্যাভোকাডো, আলু বোখারা, মরাকেল, কামিনা, চন্দ্রপ্রভাসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গাছের চারা। এর মধ্যে ওষুধি গাছ আছে বিভিন্ন প্রজাতির। বিভিন্ন প্রজাতির ড্রাগন ফল, আম, জাম, কমলা লেবু, সফেদা, জামরুল, ক্বদবেল, শরীফা, আমলকি, জলপাই, কুল, লেবুসহ বিভিন্ন ফলের সমারোহও ঘটেছে।
ছাদ বাগানের পাশাপাশি পুলিশ লাইন্স চত্বরের আড়াই বিঘা পতিত ও পরিত্যক্ত আবর্জনাময় জমি পরিস্কার করা হয়। এ জায়গায় উন্নত, স্বল্প পরিসরে ব্যাপ্ত, মৌসুম শেষে ফল প্রদানকারী সূর্যডিম, মিয়াজাকি, পালমার, বারি-৪, কিউজাই, ব্যানানা, থাই কাঁচামিঠা জাতের অন্যান্য ফলদ গাছ। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ও পুষ্টিসমৃদ্ধ আমের প্রজাতি হিসেবে পরিচিত মিয়াজাকি বা সূর্য ডিম আম গাছ। টকটকে লাল রঙ ও আকারে বড় হওয়ায় এই আম ‘এগ অব দ্য সান’ বা ‘সূর্য ডিম’ নামে পরিচিত। তবে সূর্ষ ডিম আম গাছের চারা লাগিয়ে এখন ফলন তোলার অপেক্ষায় আছেন সফল এ বাগানি। এছাড়াও এই বাগানে অন্যান্য জাতের আম, দেশি জাতের আম, মালটা, ড্রাগনসহ বিভিন্ন জাতের প্রচলিত-অপ্রচলিত-বিলুপ্ত জাতের ফল চাষও করেছেন।
জানা যায়, জাপানের মিয়াজাকি অঞ্চলে প্রথম চাষাবাদ হয় এ আমের। তাই অঞ্চলের নামানুসারে এর নাম হয় মিয়াজাকি ম্যাংগো। বাংলাদেশে এটিকে সূর্য ডিম বা লাল আমও বলা হয়ে থাকে। বিশ্বের অন্যান্য আমের চেয়ে এ আমের বাজার মূল্য যেমন বেশি তেমনি পুষ্টিগুণও অনেক।
পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ২০২১ সালের অক্টোবরে সূর্য ডিম আমের চারা সংগ্রহ করে পুলিশ লাইন্সে পতিত জমিতে এই আমের চাষ শুরু করেন। চলতি বছরে ভালো ফলন হয়েছে। এ আমের বাজার মূল্য ও চাহিদা তা দিন দিন বাড়বে। আগে এই আমের দাম ছিল ৮ হাজার টাকা কেজি। কিন্তু এখন এই আমের দাম অনেক কমেছে। সূর্ষ ডিম আমের চারা এখন বগুড়ার বিভিন্ন নার্সারিতেই পাওয়া যায়। সূর্ষ ডিম আম আর মিয়াজাকি আমের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। সূর্য ডিম আম গোলাকার হয় এবং মিয়াজাকি আম কিছুটা লম্বা হয়। তবে এই দুটি আমই জাপানি প্রজাতির।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদবিদ মতলুবর রহমান জানান, বাংলাদেশের পূর্ব-দক্ষিণের পার্বত্য অঞ্চলে প্রথম চাষ শুরু হয় বিশ্বের সবচেয়ে দামী এই আমের। এই আমের গড়ন সাধারণ আমের চাইতে বড় ও লম্বা, স্বাদে মিষ্টি এবং আমের বাইরের আবরণ দেখতে গাঢ় লাল অথবা লাল-বেগুনির মিশ্রণে একটি রঙের। একেকটি আমের ওজন হয় ৪৫০ থেকে ৭০০ গ্রামের মতো। যার প্রতি কেজি খুচরা বাজারে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সময় এই আম কেজি প্রতি বিক্রি হতো ৮ হাজার টাকায়। দামী এই আমটি বাংলাদেশের কোন জাত নয়। আমটি জাপানি প্রজাতির বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী আরো বলেন, প্রতিটি গাছ থেকেই আমরা মানবদেহের জন্য নিরাপদ ফল পাচ্ছি। ভবনের ফাঁকা ছাদ হতে পারে আদর্শ ছাদ বাগান। এখানে উৎপাদিত ফল ও শাক সবজি আমাদের নিরাপদ পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে। শহরবাসী এমন ছাদ বাগান করে ফলও সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারেন। অর্গানিক পদ্ধতির এমন সুন্দর ছাদ বাগান সাধারণত চোখে পড়ে না। এমন বাগান শহরের প্রতিটি ছাদে হলে নিরাপদ পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। এতে শহরবাসী উপকৃত হবেন ।

এদিকে, পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীর লাগানো জেলা পুলিশ কার্যালয়ের ছাদে ও পুলিশ লাইনের পরিত্যক্ত জমিতে দুই বছরে গাছগুলো ফল দিতে শুরু করেছে। নানা জাতের আমের ভারে নুইয়ে পড়েছে আমগাছগুলো। নানা রকমের সবজি ভরে উঠেছে পুলিশ লাইনের অব্যবহৃত জায়গাগুলোতে বিষধর সাপ, বেজি আর ব্যাঙের দখলে ছিল। এখন সেই সব জায়গা ফলে-ফুলে ভরে উঠেছে। পাখিরা আম, জাম, কাঁঠল গাছে প্রতিদিন ভোর বেলায় কিচির-মিচির শব্দে মুগ্ধতা ছড়িয়ে পুলিশ লাইন্সের পুলিশ সদস্যদের ঘুম ভাঙায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© নর্থ এক্সপ্রেস নিউজ কর্তৃক সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট